আইজিআরের নাম ভাঙিয়ে হবিগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার ও সাবরেজিস্ট্রারের ঘুষ বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময় মঙ্গলবার ৫ এপ্রিল, ২০২২

হবিগঞ্জের আলোচিত জেলা রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান ও সাব রেজিস্ট্রার শংকর কুমার ধর এর বিরুদ্ধে মহাপরিদর্শক নিবন্ধন (আইজিআর) এর নাম ভেঙ্গে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে দলিল রেজিস্ট্রিরও অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে মাধবপুর উপজেলার সালাউদ্দিন নামে এক দলিল লিখক সাব রেজিস্ট্রারকে উকিল নোটিশ প্রদান করেছেন। একই সাথে আইনমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, আইন সচিব, আইজিআর ও জেলা প্রশাসক বরাবর জনস্বার্থে অভিযোগ প্রেরণ করেছেন হবিগঞ্জ বারের আইনজীবী এডভোকেট হেলাল উদ্দিন তালুকদার। তিনি  সোমবার এই উকিল নোটিশ ও অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মিজানুর রহমান হবিগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার হিসাবে যোগদানের পর হবিগঞ্জ জেলার সদর সাব-রেজিস্ট্রারী অফিসসহ তাহার অধীনস্থ সকল থানার রেজিস্ট্রারী অফিসগুলোতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের আখড়ায় পরিণত করেছেন। আইজিআর এর নাম ভাঙ্গিয়ে অফিস সহায়ক আব্দুল আহাদ এবং সাব-রেজিস্ট্রার শংকর কুমার ধর এর মাধ্যমে মহাপরিদর্শক নিবন্ধন (ওএজ) অফিসের ভুয়া অনুমোদনের কপি দেখাইয়া দৈনিক মজুরীর ভিত্তিতে কর্মরত বিভিন্ন লোকদের নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ আদায় করেন এবং প্রতিটি পদোন্নতিতে আইজিআরকে ঘুষ দিতে হবে বলে শংকর কুমার ধর এর মাধ্যমে জনপ্রতি ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা জেলা রেজিস্ট্রার আদায় করেন। জেলা রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান অফিস সহকারী আব্দুল আহাদের মাধ্যমে জেলার প্রত্যেকটি সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে সাপ্তাহিক, মাসিক কিস্তিতে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ আদায় এবং জেলার কাজী সাহেবদের ভলিয়ম বই আটকিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয় জেলা রেজিস্ট্রার তাহার আর্শীবাদপুষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার শংকর কুমার ধরকে দিয়ে বড় বড় অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। বিগত দিনে সাব-রেজিস্ট্রার শংকর কুমার ধর, জেলা রেজিস্ট্রারের নির্দেশ মোতাবেক তাহার কর্মস্থল মাধবপুর চারাভাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রারী অফিসে সপ্তাহে ২ দিন রেজিস্ট্রারী করেন এবং বাকি দিন হবিগঞ্জ সদর থানায় দায়িত্ব পালন করেন। মূলতঃ মাধবপুর ও হবিগঞ্জ সদর থানার মধ্যে বিগত ৪/৫ বৎসরে অনেকগুলো শিল্প কারখানা গড়ে উঠায়, মাধবপুর ও হবিগঞ্জ সদর থানায় দলিলের সংখ্যা বেশি। জেলা রেজিস্ট্রার তাহার আর্শীবাদপুষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার শংকর কুমার ধর কে দিয়া মাধবপুর সাব-রেজিস্ট্রারী অফিস ও সদর থানা সাব-রেজিস্ট্রারী অফিস চালান। সাব-রেজিস্ট্রার শংকর কুমার ধর জেলা রেজিস্ট্রারের আর্শীবাদপুষ্ট হওয়ায় তার ক্ষমতা একটু বেশি। তাই প্রতিটি দলিলে সরকারী খরচের বাহিরে অতিরিক্ত আরো ২ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করেন। আর যদি কোন দলিলে সামান্য কাগজী সমস্যা থাকে তাহলে দলিল প্রতি ১ থেকে ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ আদায় করেন। মূলত টাকা দিলে উক্ত সাব-রেজিস্ট্রারী অফিসে সবকিছু সম্ভব। সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক আদায়কৃত ঘুষের টাকার মোটা অংশ যায় জেলা রেজিস্ট্রারের পকেটে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জেলা রেজিঃ মিজানুর রহমান ও সাব-রেজিস্ট্রার শংকর কুমার ধর উভয়ের যোগসাজসে জমির দাতা গ্রহীতা ও দলিল লেখকদের সাথে মিলেমিশে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে জমির মূল্য কম দেখাইয়া সরকারী লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আত্মসাৎ করছেন। হবিগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং ১৭০৫/২২ এ এ ধরনের কারচুপি করে বড় ধরনের রাজস্ব ক্ষতি করেন তারা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জেলা রেজিস্ট্রার, সাব-রেজিস্ট্রার ও অফিস সহকারীর এই সকল অন্যায়ের কেহ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। কেহ প্রতিবাদ করলে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিচয়ে বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে হুমকি ধামকি ও প্রতিবাদকারীকে বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমার ভয় দেখায়। কোন দলিল লেখক প্রতিবাদ করলে তাহার বিরুদ্ধে জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রারের মনোনীত লোক দিয়া জেলা রেজিস্ট্রারের বরাবরে নামে মাত্র অভিযোগ দিয়ে প্রতিবাদকারী দলিল লেখককে সাময়িক বরখাস্ত সহ স্থায়ী বরখাস্ত করেন। জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলাসহ অসংখ্য মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন আছে। তাছাড়া অনেক ভুক্তভোগী সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার, হবিগঞ্জে অভিযোগ দায়ের করিয়া কোন বিচার পায়নি।
জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার ও অফিস সহায়ক আব্দুল আহাদ সহ তাদের সহযোগীদের অন্যায় অত্যাচার ও ঘুষ বানিজ্য চরম পর্যায়ে পৌছলে অতিষ্ট হয়েসাব-রেজিস্ট্রার শংকর কুমার ধর এর বিরুদ্ধে গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর  মাধবপুরের চারাভাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রারী অফিসের দলিল লেখকগণ কলম বিরতী (আন্দোলন) করেন। এ ব্যাপারে জেলা রেজিস্টার মিজানুর রহমান ও সাব রেজিস্টার শংকর কুমার ধর এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান জানান, তিনি এখনও অভিযোগ দেখেননি। দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর