সর্বগ্রাসী রাক্ষসের কবল থেকে দেশ বাঁচান, মানুষ বেঁচে যাবে

মিলন রশীদ
  • আপডেটের সময় শুক্রবার ৮ এপ্রিল, ২০২২

প্রকৃতির সব কিছু এখন খাদ্য হয়ে গেছে। আগে খেয়েছে বনবাদাড়, পাহাড় জঙ্গল, সবুজের সমাহার। এখন খাচ্ছে পাহাড়- নদী সাগর, ছড়া, খাল। দেশব্যাপী অপ্রতিরোধ্য খাই খাই বন্ধ হওয়ার নেই কোন আলামত। দেশে আইন আছে, কিন্তু আইনের নেই কোনো কার্যকর প্রয়োগ। যে কারণে প্রকৃতিকে গিলে খাওয়ার প্রতিযোগিতার ধূম। দেশের সর্বত্রই দ্বৈত্ব দানবের এই কালো থাবার অপ্রতিরোধ্য আগ্রাসন অব্যাহতভাবে বিরাজমান।

গত কয়েক দশকে গাছপালা সাবাড় করে ফেলেছে একটি রাক্ষুষি চক্র। আইন শৃংখলা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট বনবিভাগের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহায়তায়ই খাস ও সংরক্ষিত বন সাফ হয়ে গেছে। বর্তমান সময়ে পাহাড়- নদী – খাল থেকে মাটি- বালি খাচ্ছে আরেকটি শক্তিশালী সংঘবদ্ধ মানব চক্র।

দেশের উন্নয়নের চাকা সচল রাখতেই নাকি মাটি- বালি খাওয়ার এই মহড়া। উন্নয়ন অগ্রগতি কে না চায়। দেশের আপামর মানুষই অগ্রগতির প্রত্যাশী। কিন্তু আইনী তোয়াক্কা না করে অবলীলায় নদী- পাহাড় খাল বিল ছড়া খুড়ে মাটি- বালি উত্তোলনের মহড়া পরিবেশকে ভয়ানক এক পরিস্থিতির মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে। এ থেকে উত্তোরণের পথ আইনী নানা ফাঁকফোকর ও কূটকৌশলে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এমন দাবী পরিবেশবিদ ও ভুক্তভোগী মানুষের।
সরকারী রাজস্ব আদায়ের নামে নদী – ছড়া থেকে বালি উত্তোলনের লীজ দেয়া হয়, যে স্থানটি লীজ দেয়া হয়, সেখান থেকে বালি উত্তোলন না করে সমগ্র নদী বা ছড়া এলাকা থেকেই বালি,  মাটি উত্তোলন চলছে। রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যাচ্ছে, মাটির ধূলোয় জনজীবন ওষ্ঠাগত। বিভিন্ন রোগসোগে মানুষ হচ্ছে আক্রান্ত। সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে যে, সড়ক, কালভার্ট, ব্রীজ করেছে জনস্বার্থে, সেখানে দু/চারটা অর্থলিপ্সু লোটেরার কারণে সেই সড়ক ব্রীজ, কালভার্ট জনগনের জন্য কোন সুফল বয়ে আনছে না।
পরিবেশ নিয়ে যারা সোচ্চার, তারা প্রতিনিয়ত এসব নিয়ে সভা- সেমিনার করে যাচ্ছেন, প্রশাসনের কাছে সুনিদিষ্টভাবে তুলে ধরছেন। মাটি – বালি খেকোদের অপ্রতিরোধ্য আগ্রাসনের চিত্র। কিন্তু কই, কি প্রতিকার হচ্ছে? বরং দিন দিন এর ব্যাপকতা বেড়েই চলেছে। মাঝে মধ্যে অভিযান চলে, জরিমানা হয়, বালি তোলার যন্ত্রপাতি ধংস করা হয়। কিন্তু পরক্ষনেই আবারো চলে বালি মাটি তোলার মহড়া। এই দুধর্ষ বালু ও মাটি খেকোরা দেশব্যাপী যে আগ্রাসন চালাচ্ছে, শেষ পর্যন্ত আর কি খাবে?  

পাহাড় জঙ্গল সবুজের সমারোহ আগেই গিলে খেয়েছে। বালি-মাটি, পাহাড়, নদী-খাল- ছড়ার বালি মাটি খাওয়া শেষ হয়ে গেলে, হয়ত শেষ অবদি আদম সন্তানদেরই গিলে গিলে খাবে। এছাড়া গিলে খাবার মত তো আর কোন বস্তুই থাকবে না। অভিযোগ-আর্তি জানিয়ে, বিলাপ করেই বা ফলাফল তো অধরাই থেকে যাচ্ছে। হয়তো বা এমন সময় আসবে, সকলে মিলে মাটি-বালু খেকোদের সাবাস সাবাস দেয়াই হবে সময়ের বিলাপ। এ ছাড়া আর কি পথ খোলা আছে ? তার পরও আমজনতা সদাশয় সরকারের কৃপা দৃষ্টি কামনা করে। দেশ বাঁচান, মানুষ বাঁচান, এটাই হোক এখন সময়ের দাবী।

লেখক; মিলন রশীদ
সম্পাদকীয় উপদেষ্টা
শব্দকথা২৪.কম।
 


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর