• E-paper
  • English Version
  • শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন

রাজাকার সন্তান পেলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময় শনিবার ৯ এপ্রিল, ২০২২

সম্প্রতি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা আওয়ামী লীগের চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। সেই কমিটিতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলার ৭নং কুসুম্বা ইউনিয়নের জিহাদ মণ্ডল। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়া জিহাদ মণ্ডল লাটপাড়ার রাজাকার আব্দুল হামিদের ছেলে।

অভিযোগ অস্বীকার করে জিহাদ মণ্ডল বলেছেন, তাকে হয়রানি করার জন্য বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। এই ধরণের অভিযোগ অসত্য। আর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, জিহাদ মণ্ডলের বাবা স্বাধীনতা বিরোধী ছিলেন। এই বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য, জিহাদ মণ্ডল রাজাকার পরিবারের সন্তান কি-না বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ এবং ২০১৩ সালে পাঁচবিবি উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। ওই দুই সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। কিন্তু ২০২২ সালের সম্মেলনে দলীয় কাউন্সিলরদের মতামত ছাড়াই এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

২০২১ সালে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান কর্তৃক রচিত ‘জয়পুরহাটের গণহত্যা’ শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেছে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসন। বইটি ঘেঁটে দেখা যায়, পরিশিষ্ট-২ এ জয়পুরহাটে রুজুকৃত দালাল আইন, ১৯৭২-এর মামলার বিবরণীতে রয়েছে জিহাদ মণ্ডলের পিতা আব্দুল হামিদের নাম। কলেবোরেটর হামিদের পিতা লাটপাড়ার আফাজ উদ্দিন।

বইয়ের ২১৫ নম্বর পৃষ্ঠায় ১০ নম্বর ক্রমিকে বিবাদী কলামে তার নাম রয়েছে। মামলার ধারা হিসেবে উল্লেখ আছে ইউ/এস ১১ (এ) বাংলাদেশ কলেবোরেটর (এসটি অর্ডার) ৮/৭২, ১৪৩১/৩৭৯। মামলার বাদী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে মো. আজিম উদ্দিন তালুকদারের নাম। তৎকালীন বৃহত্তর বগুড়ার ক্ষেতলাল থানায় মামলাটি করা হয়। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশ কেন্দ্র কর্তৃক প্রকাশিত ‘একাত্তরের ঘাতক ও দালালেরা কে কোথায়’ বইয়েও দালাল আইনে মামলার বিবরণীতেও আব্দুল হামিদের নাম রয়েছে।

রাজাকার সন্তান হিসেবে অভিযুক্ত এমন একজনকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) এস এম কামাল হোসেন শব্দকথা২৪.কমকে বলেন, আমি যতদূর জানি উনি পৌর ছাত্রলীগের কনভেনার ছিলো। নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হয়েছেন। তখন তো কেউ এগুলো হাজির করেনি। তাহলে তো প্রার্থিতা বাতিল হতো।

তিনি বলেন, ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে আমি প্রধান অতিথি ছিলাম। জিহাদ মণ্ডল স্থানীয় এমপি (সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সামছুল আলম দুদু) সাহেবের কাছের লোক। যদি এরকম অভিযোগ সত্যি হয়, তদন্ত সাপেক্ষে দল থেকে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর