• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন

বুক রিভিউ:- আস্তাকুঁড়

আশরাফুল ইসলাম
  • আপডেটের সময় রবিবার ১০ এপ্রিল, ২০২২

আলোচক: আশরাফুল ইসলাম
বই: আস্তাকুঁড়
লেখক: মাসুম বিল্লাহ
প্রচ্ছদ: মাসুম বিল্লাহ
প্রকাশনী: তরফদার প্রকাশনী
মূল্য: ৩৫০

ফ্ল্যাপ থেকে নেয়া:
(একজন সাধারণ মানুষের গোয়েন্দা হয়ে ওঠার গল্প)

প্রায় চার বছর পর মাহিরের সাথে দেখা তাও আবার ফেইসবুকের কল্যাণে।

অনেকদিন পর পুরোনো বন্ধুকে পেয়ে পুরোনো দিনের আড্ডায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইলাম না। চিলেকোঠার ছাদে বসে তার হাতের স্পেশাল চা খেতে খেতে,শহরের সূর্যাস্ত দেখতে বাধ্য হলাম। সূর্যাস্তের পরপরই মাহিরের চেহারাতেও যেন অন্ধকার নেমে আসলো! জানতে পারলাম এলাকায় একের পর এক লোক গায়েব হচ্ছে। কীভাবে গায়েব হচ্ছে? কেউ কিছু বলতে পারছে না। তাছাড়া কিছুদিন আগে এলাকায় আস্তাকুঁড়ের ব্যবস্থাপকের একটা গরুর নাকে-মুখে রক্ত উঠে হঠাৎ মৃত্যুবরণ করে। ব্যস এলাকায় এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়ে বেশ মজাদার ভৌতিক গল্প। এসব ঘটনা আসলেই কি ভৌতিক নাকি কারো পরিকল্পিত তার রহস্য উদঘাটনকে সামনে রেখেই এই গল্পটি এগিয়ে চলে।

লেখক পরিচিতি:

মাসুম বিল্লাহ,জন্ম ১৯৯১ সালের ৮ই মে। জন্ম ও বেড়ে উঠা ঢাকা শহরে। পৈতৃক নিবাস জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,সিলেট থেকে বনবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ২০২১ বইমেলায় পুস্তক প্রকাশন থেকে একটি উপন্যাস ‘প্ল্যাটফর্ম’ ও চিলেকোঠা প্রকাশনী থেকে কাব্যগ্রন্থ ‘রৌদ্র দক্ষ দুপুর’ প্রকাশিত হয়। এ বছর তার প্রথম থ্রিলার সিরিজ আস্তাকুঁড় ও নক্তচারী প্রকাশিত হয়েছে তরফদার প্রকাশনী থেকে।

প্রচ্ছদ বিশ্লেষণ:
একটি বইয়ের জন্য প্রচ্ছদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রচ্ছদেই ফুটে উঠবে এই বইয়ে কী নিয়ে কীভাবে আলোচনা হবে? এই বইয়ের প্রচ্ছদে দেখা যায় একজন লোক হাটছে যিনি গোয়েন্দা বা মূল চরিত্র বলা যায় আর উপরে যে বিল্ডিংটি দেখা যায় তা আস্তাকুঁড় এবং ময়লার স্তুপ। অর্থাৎ বইটি আস্তাকুঁড় এবং এলাকাকে কেন্দ্র করে ঘটা রহস্যজনক ঘটনা উদঘাটন করতে গোয়েন্দার চেষ্টা!

বই আলোচনা:
গল্পকথক এবং মাহির দীর্ঘকালের না হলেও কিছু সময়ের জন্য একসাথে থেকেছিলেন এবং একে অপরের ভালো বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু জীবিকার তাগিদ দুই বন্ধুকে আলাদা করে নেয় দুই প্রান্তে। খোদার বৃত্তাকার দুনিয়ায় আমরা যেখানেই যাই না কেন তার পরিকল্পনায় চক্রাকারের মতো ঘুরে একে অপরের সাথে দেখা হয় তেমনি উনাদের দু’জনেরও ভার্চ্যুয়াল জগতে আলাপ তারপর দেখা। কিন্তু এই একদিনের দেখা করা যে জীবনে কাল হয়ে দাঁড়াবে তা বোঝতে পারেনি শুভ। বোঝলে হয়ত দেখাই করত না। সে যাই হোক দেখা হলো, আড্ডা হলো, আড্ডার ছলে কথা উঠলো এলাকায় গায়েব হয়ে যাওয়া লোক, আস্তকুঁড় পরিচালকের গাভীর মৃত্যুর খবর। কৌতুহল জাগল শুভর কী করে হচ্ছে এসব? কৌতুহল এমন একটা জিনিস যার বশে আমরা কখনও কখনও জীবনের শেষ পর্যায়ে চলে যাই কিন্তু বোঝতেই পারি না। আর সেই কৌতুহল মেটাতে গিয়েই শুভ এবং মাহির পরে পুলিশের সন্দেহে। শুরু হয় শুভর দুশ্চিন্তা আর মাহিরের রহস্যভেদের গল্প কেননা মাহির রহস্যভেদ না করতে পারলে পুলিশ তাদেরই অপরাধী বলে জেলে পুরবে। এভাবেই মাহির আর শুভর বুদ্ধিতেই গল্প এগিয়ে চলে রহস্য উদঘাটনের মহড়ায়।

পাঠপ্রতিক্রিয়া:
বইটি ডিডেক্টিভ থ্রিলার। বইয়ের এই ধরন শুনলেই আমাদের ধারণা হয় কোনও অদ্ভুত রহস্য উদঘাটনকে কেন্দ্র করে বইটি লেখা। বইয়ের কিছু চরিত্র দারুণ ফুটেছে তার মধ্যে নারানদার চরিত্র আমার কাছে মনে হয়েছে বেশি ফুটেছে। তবে বইটি রহস্য উদঘাটনের উপর ভিত্তি করে লেখা হলেও বেশ কিছু শিক্ষণীয় এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য করণীয় কিছু বিষয় লক্ষ করা যায়। যেমন, ময়লা ফেলার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। এই বইয়ে যে ব্যবস্থাপনাটা দেখানো হয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে আমাদের দেশ পরিষ্কার, পরিচচ্ছন্নতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হবে। আরেকটি দিক লক্ষ করেছি তা হলো প্রশাসনের আসল অপরাধীকে চিহ্নিত করার দারুণ প্রবণতা যা এ সমাজে বিরল বললেই চলে। সুতরাং সবমিলিয়ে আমার কাছে দারুণ লেগেছে।

সমালোচনা:
আমি আসলে তেমন বড় পাঠক নই যে কারো সমালোচনা করব তবে এ অংশটাকে চাইলে পাঠক আমার অপরিপক্বতা বা বোঝার অক্ষমতা হিসেবে ধরতে পারেন।

বইটিতে ফ্ল্যাপে এবং ভূমিকাতে একই বিষয় লেখা হয়েছে কিন্তু আমি জানি ফ্ল্যাপে বইয়ের ভিতর থেকে মূল ঘটনা আর ভূমিকাতে পান্ডুলিপি পড়ে কেউ একজনের অনুভূতি যুক্ত করা হয়। একই বিষয় দুই জায়গায় লেখার প্রয়োজনীয়তা দেখছি না।

প্রুফ দেখায় সময় কম দেয়া হয়েছে মনে হচ্ছে। কেননা বেশ কিছু বানান এবং শব্দচয়নে অসংলগ্নতা মনে হলো। যেমন একজায়গায় ”সূর্যাস্ত দেখতে বাধ্য হলাম” এখানে লেখক এসেছেনই বন্ধুর সাথে আড্ডা দিতে তো প্রকৃতি উপভোগ করতে করতে আড্ডা দেওয়ার মজাই তো আলাদা এখানে বাধ্য হওয়ার কারণ দেখি না।

মাহির আর শুভর চরিত্রকে আরেকটুখানি হাইলাইট করে আরেকটু মজাদার করে তুলা যেত বলে আমার মনে হচ্ছে।


কিছু উক্তি এবং চিন্তা:

তুমি এখন অনেক ক্ষুধার্ত, খালার জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে আর রান্না করতে গিয়ে অনেক দেরি হয়ে গেছে তাই তোমার জিহ্বা বোধ শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।

খালার হাতের একই রান্না খেতে খেতে তোমার জিহ্বা বিরক্ত। স্বাদের ভিন্নতায় সে উল্টা পাল্টা মান দিচ্ছে।

(এখানে সেন্স অব হিউমার এবং যুক্তি দিয়ে একটা বিষয় বিশ্লেষণে লেখকের দক্ষতা ফুটেছে।)

আস্তাকুঁড়ে যারা কাজ করে তারা সবাই কোনও না কোনও নেশা করে।

ময়লার স্তুপ ঘাঁটা হচ্ছে সমুদ্র ঘাঁটার মতো।

পুনঃব্যবহার করলে আমাদের অনেক সম্পদ সাশ্রয়ী হয়।

আমরা আমেরিকাকে দেখে সেখানে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি কিন্তু নিজের দেশকে সেভাবে সাজানোর স্বপ্ন দেখি না।

মানুষের ব্রেইন আজব একটা জিনিস। এটাকে যতক্ষণ নিজের মতো করে চালাবে ততক্ষণ সে তোমার মতো চলবে কিন্তু যখন ছেড়ে দিবে তখন সে নিজের মতো কাজ করে। তোমার সব অসামপ্ত চিন্তাকে সমাপ্ত করতে থাকবে তোমার অজান্তেই।

এই মেলাতেই লেখক মাসুম বিল্লাহর আরেকটি বই এসেছে কিশোর থ্রিলার যার নাম “নক্তচারী।” বইটিও দারুণ।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর