কমলগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ ছাড়া দলিল হয় না, কর্মবিরতি দলীল লিখকদের

রাজন আবেদীন রাজু, কমলগঞ্জ
  • আপডেটের সময় মঙ্গলবার ১২ এপ্রিল, ২০২২

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস যেন `ঘুষের অভয়ারণ্য। এই অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো দলিল হয় না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের পাশাপাশি দলীল লেখকদের। সাব রেজিস্ট্রার হেদায়েত উল্ল্যাহ লতিফের দাবীকৃত ঘুষের টাকা আদায় করতে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জমির ক্রেতাদের বাধ্য করা হয়। ঘুষ না দিলে দলীল লেখকদের পাশাপাশি জমির ক্রেতা বিক্রেতাকে অহেতুক হয়রানির শিকার হতে হয়। প্রতি মাসে এই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে লাখ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্য হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার উপজেলার শমসেরনগর এলাকার এক গরীব দিন মজুরের জমির দলীল রেজিস্ট্রারে অতিরিক্ত ঘুষ দাবী নিয়ে দলীল লেখক সমিতির সভাপতি পৌর কাউন্সিলর বখতিয়ার খানের সাথে সাব রেজিস্ট্রার রহমত উল্ল্যাহ লতিফের বাকবিতণ্ডা ও সভাপতিকে লাঞ্চিত করার মত ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দলীল লেখকদের মাঝে চাপা উত্তেজনা দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে দুর্নীতিবাজ ঘুষ বাণিজ্যকারী সাব রেজিস্ট্রারের অপসারণের দাবীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করে দলীল লেখক সমিতি। জানা গেছে, রহমত উল্লাহ লতিফ কমলগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রার হিসাবে যোগদানের পর থেকে ওই অফিসে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য চলছে। অফিস সহকারী ও কয়েকজন দলিল লেখকদের মাধ্যমে তিনি ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। নানা অজুহাতে দলীল আটকে ঘুষ নিয়ে অফিস টাইমের শেষের দিকে দলীল সম্পাদন করে থাকেন। দলীল লেখকরা জানান, হেবা দলিল, বায়না রেজিস্ট্রি, বণ্টননামা দলিল, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, দলিল মূল্য সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বহুগুণ বেশি নেওয়া হচ্ছে। যদি কোনো দলিল লেখক কম মূল্যে দলিল করেন, তবে তাকে বিভিন্ন শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়। যে কোনো দানপত্র দলিল করতে গেলে ওই জমির ৩ ভাগের ১ ভাগের বেশি করার বিধান না থাকলেও মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ইচ্ছামতো দানপত্র দলিল করেন। ভুক্তভোগীরা জানান, সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার কাছে। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার ঘুষ চাওয়াকে কেন্দ্র করে সাব-রেজিস্ট্রারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়েছে দলিল লেখক ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে। কমলগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার রহমত উল্ল্যাহ লতিফ কমলগঞ্জে যোগদানের পর থেকে কর্মস্থলে থাকেন না। বসবাস করেন জেলা সদরে। তার স্ত্রী হলেন জেলার রাজনগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার। সম্প্রতি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে কর্মবিরতি পালন করেছেন সেখানকার দলীল লেখকরা । কমলগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার জেলা সদরে অবস্থান করায় কর্মদিবসগুলোতে তিনি জেলা শহর থেকে ভাড়ায় চালিত গাড়ি রিজার্ভ করে কমলগঞ্জ যাতায়াত করেন। জেলা সদরে অবস্থান করায় তার বিরুদ্ধে ইচ্ছামতো অফিসে আসার পাশাপাশি প্রতিনিয়তই বিলম্বে অফিসে আসার অভিযোগ রয়েছে। তিনি সপ্তাহের রোব, সোম ও মঙ্গলবার অফিস করেন। সপ্তাহে তিন দিন অফিস থাকলে গড় হিসেবে মাসে ১২ থেকে ১৫ দিনে তাকে গাড়ি ভাড়া গুনতে হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন সাব-রেজিস্ট্রারের মাসিক বেতন কত? এছাড়া তিনি এজলাসে না বসে অফিস রুমের দরজা বন্ধ করে দলিল সম্পাদন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কমলগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইজ্জাদুর রহমান বলেন, নিয়ম মাফিক জমির কাগজ পত্র ঠিক থাকলেও ঘুষ ছাড়া কোনো দলিল সাব-রেজিস্ট্রার সম্পাদন করেন না। দলীল লেখকদের অভিযোগ সাব-রেজিস্ট্রার অফিস সহকারী রতিন্দ্র ভট্টাচার্য এর মাধ্যমে ঘুষের টাকা লেনদেন করেন। অফিস সহকারী রতিন্দ্র ভট্টাচার্য তার মাধ্যমে ঘুষের লেনদেনের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন। এদিকে সোমবার বিকালে দুর্নীতিবাজ সাব-রেজিস্ট্রারের অপসারণের দাবীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করে কমলগঞ্জ দলীল লেখক সমিতির সভাপতি বখতিয়ার খান। আলাপকালে কমলগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার রহমত উল্লাহ লতিফ ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র ঠিক থাকলে কাউকে কোনো ধরনের হয়রানি করা হয় না। তবে সোমবার দলীল লেখক সমিতির সভাপতির সাথে বাকবিতন্ডার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর