হবিগঞ্জে পুষ্টি সচেতনতার আয়োজনে উপেক্ষিত দরিদ্ররা

সুশীল চন্দ্র দাস, হবিগঞ্জ
  • আপডেটের সময় শনিবার ২৩ এপ্রিল, ২০২২

হবিগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে কিশোর-কিশোরীদের সামনে পুষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরতে হবিগঞ্জে সেমিনারের আয়োজন করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু সেমিনারটি আয়োজনের জন্য এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হলো যেখানে অধ্যয়নরত নেই অসহায়, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত কিংবা কম সুবিধাপ্রাপ্ত একজন শিক্ষার্থীও।
পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনী সভায় বলা হয়েছে পুষ্টিহীনতার প্রধান কারণ দারিদ্রতা। অথচ সরকারের পুষ্টি সচেতনতার সেমিনারে যুক্ত হচ্ছে না একজনও দরিদ্র মানুষ।
এটি হবিগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ‘দায়সারা’ রকমের আয়োজন বলে সভায় উপস্থিত থাকা কয়েক জন মন্তব্য করেছেন।
শনিবার (২৩ এপ্রিল) হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নূরুল হক।
জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান এতে প্রধান অতিথি ছিলেন।
সম্প্রতি সরকারের পুষ্টি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের এক আদেশে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়কে বলা হয়েছে পুষ্টি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে পুষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনার জন্য একটি সেমিনার আয়োজন করতে।
সকল ক্ষেত্রের শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি নিশ্চিতের জন্যও আদেশে বলা হয়।
রোববার সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হবে। হবিগঞ্জ শহরের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলকে এই সেমিনারের জন্য নির্বাচন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অথচ এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন সকলেই সমাজের উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়ে। ব্যয়বহুল এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা প্রায় সকলেই স্বাস্থ্য সচেতন। এখানে একজনও অসহায়, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত কিংবা কম সুবিধাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী নেই।
এদিকে, উদ্বোধনী সভায় বলা হয়েছে, পুষ্টিহীনতার প্রধান কারণ দারিদ্রতা ও অসচেনতা। কিন্তু পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতামূলক সেমিনার আয়োজন করা হচ্ছে উচ্চবিত্তদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেমিনারটি এ বিদ্যালয়ে আয়োজন না করে যদি অবহেলিত এলাকার কোনো প্রাথমিক অথবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হতো তাহলে ভালো হতো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সভায় উপস্থিত একজন বলেন, সিভিল সার্জন কার্যালয় এই সেমিনারটি সুবিধাবঞ্চিত কিশোর-কিশোরীদের জন্য অংশগ্রহণে করতে পারতো। বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা লেখাপড়া করে। তারা এমনিতেই অনেক স্বাস্থ্য সচেতন। এটি স্বাস্থ্য বিভাগের ‘দায়সারা’ রকমের আয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নূরুল হক বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় এই প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারণ করা হয়েছে।


এই ক্যাটাগরিতে আরো খবর